Top News

মৌলভীবাজারের শেরপুরে জুয়ার সাতজন আটক, জুয়ার সরঞ্জাম ও নগদ টাকা জব্দ

 

শেরপুরে সাতজন জুয়ারি আটক, জুয়ার সরঞ্জাম জব্দ। ছবি: জিএম টেলিভিশন


নিউজ ডেস্ক : মৌলভীবাজার সদর উপজেলার শেরপুর এলাকায় পুলিশের বিশেষ অভিযানে সাতজনকে আটক করা হয়েছে। তারা তাস খেলার মাধ্যমে টাকার বিনিময়ে জুয়া খেলার সময় ধরা পড়েন। অভিযানে তাদের কাছ থেকে নগদ টাকা, তাসের প্যাকেট ও জুয়ার সরঞ্জাম জব্দ করা হয়েছে। স্থানীয়রা জানিয়েছেন, শেরপুরের আবাসিক এলাকায় এমন ঘটনা আগে জানা ছিল না, তাই পুলিশি অভিযান এলাকায় ব্যাপক সাড়া ফেলেছে।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, রোববার, ২৯ মার্চ দিবাগত রাত মৌলভীবাজার সদর মডেল থানার নিয়ন্ত্রণাধীন শেরপুর পুলিশ ফাঁড়ি গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালায়। টহল দলে ছিলেন এসআই শফিকুল ইসলাম ও এসআই গৌতম সরকার। তারা একটি গোপন সংবাদের ওপর ভিত্তি করে শেরপুর এলাকার আবাসিক এলাকায় অবস্থিত ঈদগাহ রোডের পিয়ারা মঞ্জিলের নিচতলায় অভিযান চালান। অভিযানের সময় সাতজনকে হাতে-কলমে আটক করা হয়। পুলিশ জানায়, তারা ওই সময় তাস ও নগদ টাকার বিনিময়ে জুয়া খেলছিলেন।

আটক ব্যক্তিরা হলেন মো: রাব্বানি (৪০), বাবুল মিয়া (৪০), আবুল কালাম (৪০), জুয়েল মিয়া (৪০), সাইফ উদ্দিন (৩০), লিটন (৫০) এবং মকবুল মিয়া (৩৮)। তাদের সকলেই মৌলভীবাজার জেলার নতুনবস্তি এলাকার বাসিন্দা। অভিযানের সময় তাদের কাছ থেকে জব্দ করা হয়েছে তিন প্যাকেট তাস (প্রতিটিতে ৫২টি করে তাস), নগদ ৭ হাজার ১০০ টাকা এবং একটি মাদুর। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা স্বীকার করেছেন যে তারা টাকার বিনিময়ে তাসের মাধ্যমে জুয়া খেলছিলেন।

পুলিশ জানিয়েছে, এ ধরনের কার্যক্রম ১৮৬৭ সালের প্রকাশ্য জুয়া আইনের ৩ ও ৪ ধারায় শাস্তিযোগ্য। এই আইনের আওতায় তাদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করে আদালতে পাঠানো হয়েছে। শেরপুর পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই শিপু কুমার দাস বলেন, “এ ধরনের অভিযান এলাকায় আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে জরুরি। সাধারণ মানুষ যাতে নিরাপদ পরিবেশে বসবাস করতে পারে এবং কেউ অবৈধ কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে শান্তি ভাঙতে না পারে, সে জন্য পুলিশ সবসময় সচেষ্ট থাকবে।”

স্থানীয়রা জানিয়েছেন, তারা এই ধরনের গোপন জুয়ার ঘটনা আগে জানতেন না। পুলিশের এই অভিযান স্থানীয়দের মধ্যে আশ্বাস দিয়েছে যে ভবিষ্যতেও এই ধরনের অপরাধ দমন করা হবে। তারা আশা প্রকাশ করেছেন, পুলিশ নিয়মিত নজরদারি চালিয়ে এলাকায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষা করবে।

সদর থানার কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, অভিযানের অংশ হিসেবে তারা পরিকল্পনা করেছেন জনসচেতনতা বৃদ্ধি করার। এর মাধ্যমে মানুষকে জুয়া ও অবৈধ অর্থ লেনদেনের মতো কর্মকাণ্ড থেকে দূরে রাখা সম্ভব হবে। কর্মকর্তারা বলছেন, “শিশু, কিশোর ও যুবকদের এই ধরনের অনৈতিক কর্মকাণ্ড থেকে রক্ষা করতে পরিবার, স্কুল ও কমিউনিটি সচেতন হতে হবে। শুধুমাত্র পুলিশের অভিযান যথেষ্ট নয়, সামাজিক প্রতিরোধও প্রয়োজন।”

পুলিশ জানিয়েছে, শেরপুর এলাকায় নিয়মিত অভিযান চালানো হবে এবং আইন অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। তারা আশা প্রকাশ করেছেন, এই ধরনের অভিযান এলাকার মানুষকে সচেতন করবে এবং জুয়া, মাদক বা অন্যান্য অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড থেকে মানুষকে রক্ষা করবে।

পুলিশি অভিযানগুলো শুধু অপরাধ দমনেই সীমাবদ্ধ নয়; এগুলো জনসচেতনতা বৃদ্ধিতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। টহল দল এলাকায় নিয়মিত উপস্থিত থাকায় মানুষ বুঝতে পারবে যে অবৈধ কর্মকাণ্ডের কোনো সুযোগ নেই। পুলিশ আশা করছে, স্থানীয় জনগণও এই প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণ করবে এবং বাড়ি ও আশেপাশের এলাকা পরিষ্কার রেখে অপরাধ দমন কার্যক্রমে সহায়তা করবে।

এসব পদক্ষেপের মাধ্যমে শেরপুর ও আশেপাশের এলাকায় আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখা সম্ভব হবে এবং মানুষ নিরাপদভাবে বসবাস করতে পারবে। পুলিশ জানিয়েছে, তারা আগামীতে আরও কিছু অভিযান পরিকল্পনা করছে, যাতে এলাকা থেকে জুয়া, মাদক ও অন্যান্য অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড সম্পূর্ণভাবে উচ্ছেদ করা যায়।


Post a Comment

Previous Post Next Post