Top News

কুলাউড়ায় পুলিশ সুপারকে ঘুষ দেওয়ার চেষ্টা, আটক ২

 

কুলাউড়া থানায় পুলিশ সুপারকে ঘুষ দেওয়ার চেষ্টা, নগদ টাকাসহ আটক ২ জন
ছবি: জিএম টেলিভিশন

নিউজ ডেস্ক: 

মৌলভীবাজারের কুলাউড়া থানায় পুলিশ সুপারকে ঘুষ দেওয়ার চেষ্টা করতে গিয়ে মইনুল ইসলাম চৌধুরী সামাদ ও জেসমিন আক্তার নামে দুইজনকে আটক করেছে পুলিশ। ঘটনাটি এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কঠোর অবস্থান আবারও স্পষ্ট করেছে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আটক সামাদ কুলাউড়া উপজেলার রাউৎগাঁও ইউনিয়নের ভবানীপুর গ্রামের বাসিন্দা মৃত আতিকুর রহমান চৌধুরীর ছেলে। তিনি স্থানীয় চৌধুরী বাজারে ব্যবসা করেন। অপরদিকে জেসমিন আক্তার একই ইউনিয়নের আব্দুলপুর গ্রামের মৃত তাহির আলীর মেয়ে।

জানা গেছে, জেসমিন আক্তারের সঙ্গে তার সাবেক স্বামী মাহতাব মিয়ার দীর্ঘদিনের পারিবারিক বিরোধ রয়েছে। এ সংক্রান্ত একাধিক বিষয় আদালতে বিচারাধীন। পুলিশ সূত্রের দাবি, স্বামীকে বিভিন্নভাবে হয়রানি করতে অতীতেও জেসমিন আক্তার নানা অভিযোগ ও কৌশলের আশ্রয় নিয়েছেন। এমনকি এক পর্যায়ে তার মেয়েকে ধর্ষণের অভিযোগ এনে স্বামীকে বিপাকে ফেলার চেষ্টা করা হয়েছিল বলেও অভিযোগ রয়েছে।

সর্বশেষ, স্বামী বিদেশে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন—এমন তথ্য পেয়ে তাকে বাধাগ্রস্ত করার পরিকল্পনা করেন জেসমিন আক্তার। সেই পরিকল্পনার অংশ হিসেবে বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) দুপুরে তিনি ব্যবসায়ী সামাদকে সঙ্গে নিয়ে নগদ দুই লাখ টাকা নিয়ে কুলাউড়া থানায় উপস্থিত হন।

সেদিন কুলাউড়া থানায় সিলেট রেঞ্জের ডিআইজি মো. মুশফেকুর রহমানের দ্বিবার্ষিক পরিদর্শন চলছিল। এ সময় সেখানে উপস্থিত ছিলেন মৌলভীবাজারের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ বিল্লাল হোসেন, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (কুলাউড়া সার্কেল) মো. আজমল হোসেন এবং কুলাউড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান মোল্যা সহ অন্যান্য কর্মকর্তারা।

পরিদর্শন শেষে জেসমিন আক্তার পুলিশ সুপারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন এবং তার স্বামীর বিদেশ যাওয়া বন্ধ করার জন্য সহযোগিতা চান। এ সময় তার সঙ্গে থাকা সামাদ চৌধুরী কৌশলে জেসমিনের কাছ থেকে দুই লাখ টাকা নেন। পরে তিনি ওই টাকার মধ্যে ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা আলাদা রেখে দেন এবং বাকি ৪০ হাজার টাকা একটি খামের ভেতরে রেখে পুলিশ সুপারের হাতে দেওয়ার চেষ্টা করেন।

ঘটনার আকস্মিকতায় উপস্থিত সবাই বিস্মিত হয়ে পড়েন। পুলিশ সুপার খামটি গ্রহণ করার পর খুলে ভেতরে টাকার বান্ডিল দেখতে পান। সঙ্গে সঙ্গে তিনি বিষয়টি অনুধাবন করে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন। এরপর পুলিশ সদস্যরা দ্রুত অভিযানে নেমে সামাদ ও জেসমিনকে নগদ টাকাসহ আটক করে।

পরে তাদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ করা হয় এবং ঘটনাটির সত্যতা নিশ্চিত করা হয় বলে জানায় পুলিশ। আটককৃতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।

কুলাউড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান মোল্যা বলেন, এ ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে আটক দুইজনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছে। শুক্রবার তাদের আদালতে প্রেরণ করা হবে এবং পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া চলবে।

এ বিষয়ে মৌলভীবাজারের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ বিল্লাল হোসেন বলেন, জেসমিন আক্তার কয়েকদিন ধরে তার সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করে দেখা করার চেষ্টা করছিলেন। পরে তাকে কুলাউড়া থানায় এসে দেখা করতে বলা হয়। সাক্ষাতের সময় তার সঙ্গে থাকা সামাদ একটি খাম তার হাতে দিলে সন্দেহ হওয়ায় খামটি খুলে দেখা হয়। এতে টাকার বান্ডিল দেখতে পেয়ে সঙ্গে সঙ্গে তাদের আটক করার নির্দেশ দেওয়া হয়।

তিনি আরও বলেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় পুলিশ কোনো ধরনের অনৈতিক প্রস্তাব বা ঘুষের বিষয়কে কঠোরভাবে প্রতিহত করবে। এ ধরনের ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ঘটনাটি স্থানীয়ভাবে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতা তৈরি করেছে যে, আইন প্রয়োগকারী সংস্থার কাছে অনৈতিক প্রস্তাব দিলে তার পরিণতি কী হতে পারে।

Post a Comment

Previous Post Next Post