![]() |
ঘটনাটি ঘটেছে মঙ্গলবার দুপুরে। প্রসূতি ফাতেমা বেগমকে নিয়ে তাঁর স্বামী আল আমিন প্রধানীয়া লঞ্চে করে হাসপাতালে যাচ্ছিলেন। তাঁদের বাড়ি মতলব উপজেলার জহিরাবাদ চর উমেদ এলাকায়। শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাঁরা চাঁদপুর ২৫০ শয্যা সরকারি জেনারেল হাসপাতাল-এ যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। সেই উদ্দেশ্যে তাঁরা এমভি হাশেমপুর-এ যাত্রা শুরু করেন। কিন্তু যাত্রাপথেই হঠাৎ তীব্র প্রসবব্যথা শুরু হয় এবং পরিস্থিতি দ্রুত জটিল হয়ে ওঠে।
লঞ্চে উপস্থিত যাত্রী ও কর্মীদের সহযোগিতায় কোনোভাবে সেখানেই সন্তান প্রসব সম্পন্ন হয়। তবে প্রসবের সময় অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ শুরু হলে উপস্থিত সবাই উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন। এ অবস্থায় লঞ্চ দ্রুত চাঁদপুর লঞ্চঘাট-এ ভিড়ে। ঘাটে পৌঁছানোর পরপরই খবর পেয়ে এগিয়ে আসে নৌ পুলিশ ও স্থানীয়রা।
বাংলাদেশ নৌ পুলিশ-এর সদস্যরা দ্রুততার সঙ্গে মা ও নবজাতককে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠান। চাঁদপুর সদর নৌ পুলিশের ইনচার্জ এইচ এম ইকবাল হোসেন জানান, লঞ্চে সন্তান জন্মের খবর পেয়ে তারা দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে সহায়তা করেন এবং জরুরি ভিত্তিতে হাসপাতালে পৌঁছে দেন।
হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসকরা মা ও শিশুকে তাৎক্ষণিক চিকিৎসা দেন। হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক মাহবুবুর রহমান জানান, নবজাতক বর্তমানে স্থিতিশীল থাকলেও প্রসূতির শরীরে প্রচুর রক্তক্ষরণ হয়েছে, যা উদ্বেগজনক। তাঁকে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় রক্ত সরবরাহের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। চিকিৎসকদের একটি দল সার্বক্ষণিক তাঁর শারীরিক অবস্থা পর্যবেক্ষণ করছে।
প্রসূতির স্বামী আল আমিন প্রধানীয়া বলেন, “আমরা দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছানোর চেষ্টা করছিলাম। কিন্তু মাঝপথেই হঠাৎ ব্যথা বেড়ে যায়। লঞ্চেই সন্তান জন্ম নেয়। তখন পরিস্থিতি খুবই ভয়াবহ হয়ে উঠেছিল, বিশেষ করে রক্তক্ষরণ দেখে আমরা খুবই আতঙ্কিত হয়ে পড়ি। পরে নৌ পুলিশ ও স্থানীয়দের সহযোগিতায় দ্রুত হাসপাতালে নিতে পেরেছি।”
এদিকে এই ঘটনার মানবিক দিকও নজর কেড়েছে। লঞ্চটির মালিক নবজাতকের জন্মের খবর শুনে তাৎক্ষণিকভাবে আনন্দ প্রকাশ করেন এবং শিশুটিকে ৫ হাজার টাকা ও নতুন পোশাক উপহার দেন। শুধু তাই নয়, তিনি ঘোষণা দেন এই লঞ্চে নবজাতকের যাতায়াত ভাড়া আজীবনের জন্য সম্পূর্ণ বিনামূল্যে থাকবে। তাঁর এই উদ্যোগ উপস্থিত যাত্রী ও স্থানীয়দের প্রশংসা কুড়িয়েছে।
স্থানীয়দের মতে, এমন ঘটনা বিরল হলেও নদীপথে যাতায়াতকারী মানুষের জন্য জরুরি চিকিৎসা সুবিধার প্রয়োজনীয়তাকে আবারও সামনে নিয়ে এসেছে। বিশেষ করে গর্ভবতী নারীদের ক্ষেত্রে সময়মতো চিকিৎসা নিশ্চিত করা না গেলে পরিস্থিতি দ্রুত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।
সব মিলিয়ে, একটি ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতির মধ্যেও নতুন জীবনের আগমন যেমন আনন্দের বার্তা দিয়েছে, তেমনি এটি আবারও স্মরণ করিয়ে দিয়েছে জরুরি স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থার সহজপ্রাপ্যতা কতটা গুরুত্বপূর্ণ। মা ও নবজাতকের সুস্থতা কামনা করছেন চিকিৎসক, স্বজন ও স্থানীয়রা।

Post a Comment