Top News

সরকারি কর্মকর্তাদের নতুন পে স্কেল পুনর্বিবেচনার আহ্বান: দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য

 

দেবপ্রিয় ভট্টাচার্যফাইল ছবি

দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেন, “বিগত অন্তর্বর্তী সরকার শেষ মুহূর্তে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নতুন পে স্কেলের সুপারিশ করেছে। যা তারা নিজেরা বাস্তবায়ন করতে পারেনি, সেটি বর্তমান সরকারের হাতে বাকি রেখে গেছেন। এটি অনেক ক্ষেত্রে অন্যায্য। বর্তমান সরকারের উচিত, নিজস্বভাবে একটি নতুন কমিশন গঠন করে এটি পুনর্বিবেচনা করা। আগের কমিশনের প্রতিবেদন একটি সহায়ক উপাদান হিসেবে ব্যবহার করা যেতে পারে, তবে তা প্রশ্নহীনভাবে গ্রহণ করা যায় না। সুপারিশগুলি যৌক্তিকভাবে পুনর্মূল্যায়ন করা প্রয়োজন।”

তিনি আরও যোগ করেন, “সরকারি কর্মকর্তাদের বেতন বৃদ্ধি নিয়ে প্রায়শই আলোচনা হয়। কিন্তু বেতন বাড়লে পেনশন খরচও বাড়ে, যা নিয়ে তেমন আলোচনা হয় না। প্রকৃতপক্ষে বেতন বৃদ্ধির মাধ্যমে সরকারের ক্রমাগত ব্যয় বৃদ্ধির বিষয়টি আংশিকভাবে লুকানো থাকে। তাই নতুন সরকারকে বেতন কাঠামো পুনর্বিবেচনার সময় এসব বিষয়ও খতিয়ে দেখতে হবে।”

আজ মঙ্গলবার ধানমন্ডিতে বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি) এর সম্মেলন কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত মিডিয়া ব্রিফিংয়ে দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য এই মন্তব্য করেন। অনুষ্ঠানটির আয়োজন করেছে এসডিজি বাস্তবায়নে নাগরিক প্ল্যাটফর্ম, বাংলাদেশ।

বিদায়ী সরকারের পে স্কেল কমিশন এবং সুপারিশ

বিদায়ী অন্তর্বর্তী সরকার সরকারি কর্মকর্তা–কর্মচারীদের নতুন পে স্কেলের জন্য সাবেক অর্থ সচিব জাকির আহমেদ খানের নেতৃত্বে ২৩ সদস্যের একটি জাতীয় বেতন কমিশন গঠন করেছিল। ২০২৬ সালের ২২ জানুয়ারি কমিশন ১৪ লাখ সরকারি কর্মচারী এবং ৯ লাখ পেনশনভোগীর জন্য বেতন ও ভাতা বৃদ্ধির সুপারিশ প্রদান করে। সুপারিশ অনুযায়ী বেতন বৃদ্ধি ১০০ থেকে ১৪০ শতাংশ পর্যন্ত হতে পারে, তবে গ্রেড সংখ্যা আগের মতো ২০টি রাখা হয়েছে।

  • সর্বনিম্ন ধাপে বেতন কাঠামো ৮ হাজার ২৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২০ হাজার টাকা করার প্রস্তাব করা হয়।
  • সর্বোচ্চ ধাপে বেতন কাঠামো ৭৮ হাজার টাকা থেকে ১ লাখ ৬০ হাজার টাকায় উন্নীত করার সুপারিশ করা হয়।
  • সর্বনিম্ন ও সর্বোচ্চ বেতনের অনুপাত আগে ১:৯.৪ ছিল, যা নতুন প্রস্তাবে ১:৮ নির্ধারণ করা হয়েছে।

সাবেক প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস কমিশনের প্রতিবেদনের প্রশংসা করে বলেন, “এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ এবং সৃজনশীল কাজ। বহু মানুষ এর জন্য দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করেছে। প্রতিবেদনের আউটলাইন দেখেই এর গুণমান বোঝা যায়।”

কমিশন প্রধান জাকির আহমেদ খান প্রতিবেদনের সাথে জানান, সুপারিশ বাস্তবায়ন করতে হলে সরকারের অতিরিক্ত ব্যয় পড়বে প্রায় ১ লাখ ৬ হাজার কোটি টাকা। বর্তমানে সরকারি কর্মচারী ও পেনশনভোগীর জন্য সরকারের বার্ষিক ব্যয় দাঁড়িয়েছে প্রায় ১ লাখ ৩১ হাজার কোটি টাকা।

দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলছেন, নতুন সরকারকে এখন এই সুপারিশগুলো পুনর্বিবেচনা করে একটি বাস্তবসম্মত ও টেকসই বেতন কাঠামো প্রণয়ন করা উচিত, যাতে সরকারি কর্মচারীর জীবিকায় স্থিতিশীলতা আসে এবং সরকারের আর্থিক ভারসাম্যও বজায় থাকে।


Post a Comment

Previous Post Next Post