![]() |
নিউজ ডেস্ক :
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে হঠাৎ করেই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে আসা কনটেন্ট ক্রিয়েটর তাইজুল ইসলাম তাজুকে ঘিরে নতুন করে তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তা। কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী উপজেলার এই তরুণের বহুল জনপ্রিয় ফেসবুক পেজ ‘তাজু ভাই ২.০’ হঠাৎ করেই উধাও হয়ে গেছে। রোববার দুপুরের পর থেকে পেজটি আর খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না, যা তাঁর ভক্ত-অনুসারীদের মধ্যে উদ্বেগ, কৌতূহল এবং ক্ষোভ—সবকিছুরই জন্ম দিয়েছে।
তাজুর ঘনিষ্ঠ একটি সূত্র জানিয়েছে, পেজটি সম্ভবত ফেসবুক কর্তৃপক্ষ সাময়িকভাবে বন্ধ করে দিয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, সে বিষয়ে এখনো কোনো নির্দিষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি। ফলে বিষয়টি ঘিরে নানা জল্পনা-কল্পনা ছড়িয়ে পড়েছে অনলাইনে।
এ বিষয়ে ‘তাজু ভাই টিম’-এর সমন্বয়ক এবং স্থানীয় ইউপি সদস্য কবিরুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি তাঁর ফেসবুক পেজ ‘অবেলা মিউজিক’–এ এক পোস্টে লিখেছেন, “আমাদের সকলের প্রিয় ভাইরাল তাজু ভাইয়ের ‘তাজু ভাই ২.০’ পেজটি সাময়িকভাবে বন্ধ করে দিয়েছে ফেসবুক কর্তৃপক্ষ। আমরা আশাবাদী, খুব শিগগিরই পেজটি আবার ফিরে আসবে এবং তাজু ভাই তাঁর ভক্তদের মাঝে আগের মতো সক্রিয় হবেন।”
উল্লেখ্য, গত ২৬ মার্চ মহান স্বাধীনতা দিবসে একটি সাধারণ ভিডিওর মাধ্যমে আলোচনায় আসেন তাইজুল ইসলাম তাজু। কুড়িগ্রামের নারায়ণপুর বাজারে দাঁড়িয়ে মোবাইল ফোনে ধারণ করা সেই ভিডিওতে তিনি একজন দোকানির কাছে জিলাপির দাম সম্পর্কে জানতে চান এবং সেটি সরকারি দরের সঙ্গে মিলছে কি না, সে বিষয়ে প্রশ্ন তোলেন। তাঁর সহজ-সরল উপস্থাপনা, ভাঙা ভাঙা ভাষা এবং স্বতঃস্ফূর্ত অভিব্যক্তি খুব দ্রুতই মানুষের নজর কাড়ে। অল্প সময়ের মধ্যেই ভিডিওটি ভাইরাল হয়ে যায়, আর সেই সঙ্গে তাজুও হয়ে ওঠেন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পরিচিত মুখ।
এরপর আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি তাঁকে। মাত্র কয়েক দিনের ব্যবধানে তাঁর ফেসবুক পেজের অনুসারী সংখ্যা কয়েক হাজার থেকে বেড়ে প্রায় ১০ লাখে পৌঁছে যায়, যা সত্যিই বিস্ময়কর। গ্রামবাংলার সাধারণ একজন তরুণ কীভাবে নিজের স্বতঃস্ফূর্ততা দিয়ে মানুষের হৃদয় জয় করতে পারেন, তাজুর উত্থান তারই একটি উদাহরণ হয়ে ওঠে।
তাইজুল ইসলামের ব্যক্তিজীবনও সংগ্রামের গল্পে ভরা। তিনি নাগেশ্বরী উপজেলার ব্রহ্মপুত্র নদবেষ্টিত নারায়ণপুর ইউনিয়নের সরকারপাড়া গ্রামের বাসিন্দা। ছয় ভাইবোনের মধ্যে তিনি সবার বড় এবং পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি। অভাব-অনটনের কারণে কখনো বিদ্যালয়ে যাওয়ার সুযোগ পাননি। জীবিকার তাগিদে রাজধানীতে রাজমিস্ত্রির সহকারী হিসেবে কাজ করেছেন দীর্ঘদিন।
তবে জীবনের কঠিন বাস্তবতার মাঝেও নিজের মতো করে আনন্দ খুঁজে নেওয়ার চেষ্টা করেছেন তাজু। কাজের ফাঁকে কিংবা গ্রামে ফিরে মোবাইল ফোনে ছোট ছোট ভিডিও ধারণ করতেন তিনি। তাঁর নিজের ভাষায়, “আমার মা-বাবা দুজনই অসুস্থ এবং শ্রবণপ্রতিবন্ধী। পরিবারের কষ্ট ভুলতেই আমি ভিডিও করি। আমি কোনো সাংবাদিক না, আমি শুধু আমার মতো করে কথা বলি।”
হঠাৎ করে তাঁর জনপ্রিয় ফেসবুক পেজটি অদৃশ্য হয়ে যাওয়ায় অনেকেই শঙ্কা প্রকাশ করছেন—এতে কি থেমে যাবে তাজুর এই উত্থান? আবার কেউ কেউ আশা করছেন, এটি সাময়িক সমস্যা, খুব দ্রুতই পেজটি ফিরে আসবে এবং তাজু আবারও তাঁর সহজ-সরল কনটেন্ট দিয়ে দর্শকদের মন জয় করবেন।
সব মিলিয়ে, একটি সাধারণ ভিডিও থেকে শুরু হওয়া এক তরুণের স্বপ্নযাত্রা এখন এক অনিশ্চিত মোড়ে দাঁড়িয়ে। পেজটি পুনরায় চালু হবে কি না, কিংবা এর পেছনের প্রকৃত কারণ কী—সেসব প্রশ্নের উত্তর জানার অপেক্ষায় এখন তাঁর লক্ষাধিক অনুসারী।

Post a Comment